দৈনন্দিন আমল ও রুটিন:
“মাদ্রাসার ছাত্রীদের ইলম, আমল ও চরিত্র গঠনের জন্য একটি সুশৃঙ্খল দৈনন্দিন রুটিন অনুসরণ করা হয়।”
| সময় | কার্যক্রম |
| শেষ রাত | তাহাজ্জুদ নামাজ এবং আল্লাহর দরবারে মুনাজাত |
| ফজরের পর – সকাল ৮:০০ | ফজরের নামাজ, যিকির, কোরআন তিলাওয়াত, কেরাত, আদিয়ায়ে মাসনুনাহ,
মাশক, ইশরাকের নামাজ ও নাস্তা |
| সকাল ৮:৩০ – দুপুর ১:১৫ | নিয়মিত ক্লাস |
| যোহরের সময় | অযু-গোসল, যোহরের নামাজ, খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম |
| দুপুর ২:৩০ – বিকাল | হাতের লেখা অনুশীলন, তাকরার (পাঠ পুনরাবৃত্তি) ও কোচিং |
| আসরের পর | আসরের নামাজ, খতম, যিকির, তা’লীম এবং ছোটদের হামদ-নাত চর্চা |
| মাগরিবের পর | আওয়াবীনের নামাজ |
| মাগরিব – রাত ৯টা | সবক শেখা এবং নতুন পাঠ মুতালা |
| ইশার পর | ইশার নামাজ, খাবার গ্রহণ, কিতাব অধ্যয়ন ও রাতের আমল শেষে বিশ্রাম |
পরীক্ষা পদ্ধতি ও ছুটির তালিকা
পরীক্ষা পদ্ধতি
মাদ্রাসায় শিক্ষার মান যাচাই করার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেমন—
- সাপ্তাহিক পরীক্ষা
- মাসিক পরীক্ষা
- ১ম সাময়িক পরীক্ষা
- ২য় সাময়িক পরীক্ষা
- বার্ষিক পরীক্ষা
সাপ্তাহিক পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত মৌখিকভাবে জানানো হয়। অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফল রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয় এবং রেজাল্ট কার্ডের মাধ্যমে ছাত্রীদের হাতে প্রদান করা হয়।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষার কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে মাদ্রাসার সকল বকেয়া পরিশোধ করা আবশ্যক।
সকল ছাত্রীকে প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
ছুটির তালিকা
মাদ্রাসায় বছরে নির্ধারিত কিছু ছুটি রয়েছে।
- ঈদুল আযহার ছুটি: ১২ দিন
- ১ম সাময়িক পরীক্ষার ছুটি: ৭ দিন
- ২য় সাময়িক পরীক্ষার ছুটি: ৭ দিন
কিতাবখানার বার্ষিক পরীক্ষা সাধারণত রমযানের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী ছুটির সময় নির্ধারণ করা হয়।
অন্যান্য কর্মসূচী:
- সপ্তাহে একদিন তারবিয়াতি তা’লীম।
- জুমার রাতে নফল নামাজ ও বিশেষ আমল।
- জুমার দিন আসরের পর দরুদ শরিফ খতম ও দোয়ার আমল।
- জুমার দিন পেছনের ছবক মুখস্থ করা, সামনের প্রস্তুতি নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আসরের পর সাপ্তাহিক আমল ও দোয়া।
- প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ছাত্রীদের নিয়ে তা’লীমের ব্যবস্থা।
- বয়স্কাদের জন্য সহিহ-শুদ্ধরূপে কুরআন শরিফ, নামাজ ও মাসায়েল শিক্ষার ব্যবস্থা।
- রমজানের ১ দিন পূর্বে (অর্থাৎ ২৯ শাবান) থেকে ২৪ রমজান পর্যন্ত হিফজ, নাজেরা, নূরানি ও মুয়াল্লিমা ট্রেনিং। এছাড়া সব বিভাগের কায়দা, আমপারা, কুরআন শরিফ ও নাহু-সরফসহ কঠিন বিষয়াদি গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হয়।
