জামিয়া ইব্রাহীমিয়া আমীনিয়া (মহিলা মাদরাসা) একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ এবং ‘আল-হাইয়াতুল উলয়া’-এর মানদণ্ড অনুযায়ী কওমি মাদরাসা শিক্ষার প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক শিক্ষার এক সুন্দর সমন্বয় বাস্তবায়িত হয়েছে।
আমাদের পরিচালিত বিভাগসমূহ:
১. নাজেরা ও ক্বিরাত বিভাগ (বিশুদ্ধ তিলাওয়াত)
- বিবরণ: ইলমুত তাজবীদের (কুরআন পড়ার নিয়মাবলি) আলোকে প্রতিটি হরফের মাখরাজ ও সিফাত রক্ষা করে সহিহ-শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখানো হয়।
- বিশেষত্ব: ‘ক্বিরাত’ (ক্বারিয়ানা) ও মশকের মাধ্যমে ছাত্রীদেরকে সুমধুর স্বরে তিলাওয়াতের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
২. আদর্শ হিফজুল কুরআন বিভাগ
- বিবরণ: কুরআন পাঠে পারদর্শী ছাত্রীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করার বিশেষ ব্যবস্থা।
- পদ্ধতি: দক্ষ ও অভিজ্ঞ হাফেজা শিক্ষিকাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবং নিয়মিত ইয়াদ (স্মরণ) ও দাওর করার মাধ্যমে ছাত্রীদেরকে হাফেজা হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
৩. ইবতেদাইয়্যাহ (প্রাথমিক স্তর: শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম) * পাঠ্যক্রম:
- এখানে শিশুদের ‘নূরানী পদ্ধতি’ ও ‘তাইসিরুল কুরআন’ অনুযায়ী বিশুদ্ধ তিলাওয়াত এবং আদইয়াহ ও মাসনূন দুআ শেখানো হয়।
- আধুনিক শিক্ষা: একইসাথে প্রতিটি শ্রেণিতে সরকারি সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইতিহাস ও ভূগোল পড়ানো হয়। ফলে ৫ম শ্রেণি সম্পন্ন করে একজন ছাত্রী দ্বীনি ও জাগতিক—উভয় জ্ঞানেই দক্ষ হয়ে ওঠে।
৪. কিতাব বিভাগ: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (মিযান থেকে হেদায়া)
- প্রধান বিষয়: এই স্তরে আরবী ভাষা ও ব্যাকরণ (মিযান, নাহবেমীর, কাফিয়া), ফিকহ বা ইসলামী আইন (কুদূরী, শরহে বেকায়াহ) এবং উসূলে ফিকহ ও বালাগাত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়।
- কুরআন অনুবাদ: এ পর্যায়ে ছাত্রীদেরকে পূর্ণ কুরআনের তারকীব ও তাহকীকসহ সাবলীল তরজমা (অনুবাদ) শেখানো হয়।
৫. মারহালাতুল ফযীলত ও তাকমীল (স্নাতক ও মাস্টার্স সমমান)
- বিবরণ: এটি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর। স্নাতক (মিশকাত) স্তরে তাফসিরে জালালাইন ও মিশকাত শরীফ এবং দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) স্তরে সিহাহ সিত্তাহসহ মোট ১০টি হাদীসের কিতাব (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ইত্যাদি) পাঠদান করা হয়।
